মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

কৃ্ত্রিম প্রজনন কেন্দ্র

সুস্থ ও মেধাবী জাতিগোষ্ঠি তৈরিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশসহ আদর্শদুগ্ধ খামার স্থাপনের জন্য প্রয়োনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠক সূত্রে ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে প্রায় ৮৫ হাজার মেটিকটন মৎস্য, চিংড়ি মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৪ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। মানব দেহের অত্যাবশকীয় খাদ্য উপাদান নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ সরবরাহের মাধ্যমে মেধাবী, স্বাস্থ্যবান ও বুদ্ধিদীপ্ত জাতিগঠনের লক্ষ্যেদেশে দুধ, মাংস  ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কমিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সদা তৎপর থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছে।  

 

গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন নিঃসন্দেহ দেশ ও জাতির জন্য উন্নয়নমূলক আধুনিক কার্যক্রমগুলোর একটি। অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসক দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের কাজ করাতে হবে। প্রতি উপজেলাতে পশুসম্পদ উন্নয়নে সরকার একজন করে পশুচিকিৎসক নিয়োগ করেছেন। নানাবিধ পশু সমস্যার সমাধান পেতে গরিব কৃষকসহ ওই এলাকার জনসাধরণ তাদের কাছে সরনাপন্ন হন। এছাড়া বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও পশুপালন ও তার রোগবালাইয়ের চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এক কথায় কৃত্রিম প্রজননে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।  অষ্টমনিষা

কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উন্নত ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার ও সুস্থ গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করতে পারলে বছরে বাচ্চা উৎপাদন দু'লক্ষেরও বেশি পাওয়া সম্ভব। বাকৃবি এ ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য পেয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকহারে এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে শিগগিরই ডেইরি শিল্প কাঙ্খিত স্বপ্নে পৌছাতে পারবে। 

সাধারণত ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে কৃত্রিম প্রজনন বলে। একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী প্রজনন করানো যায়। স্বাভাবিকভাবে একটি ষাঁড়ের সর্বমোট ৭০০ থেকে ৯০০টি বাছুর প্রসবে ভূমিকা রাখতে পারে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অনেকাংশে সংক্রামক ব্যাধি রোধ করা যায় এবং গাভী ষাঁড়ের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয় না। 

আমাদের দেশে ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন বা সংস্থাপনে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় গাভীর উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। কৃত্রিম প্রজনন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত না হলে ভালর চেয়ে খারাপই হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব, অসাবধানতা, জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি-বিচ্যুতি এর জন্য দায়ী। 

বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ষাঁড়ের অভাব থাকায় কৃত্রিম প্রজনন জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অসাবধানতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে নানা সমস্যার সন্মুখিন হতে হয়। কৃত্রিম প্রজননের ভাল দিক যেমন আছে তেমন এর খারাপ দিকও কিছু আছে। বাস্তবে দেখা যায় স্বাভাবিক প্রজনন অপেক্ষা কৃত্রিম প্রজননে গর্ভ সঞ্চারের হার বেশ কম, বার বার গর্ভধারণ করাতে খরচও হয় বেশি। রোগাক্রান্ত ষাঁড়ের বীজ গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করা হলে পরবর্তীতে দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা। যার প্রভাব পরবর্তী বংশবিস্তারের উপর বর্তায়। এ ছাড়া অনেক গাভী বার বার গরম হয়ে থাকে। এক নিরীক্ষায় দেখা গেছে একটি গাভী গর্ভ সঞ্চারের জন্য গড়ে ১৩ বার পর্যন্ত প্রজননের প্রয়োজন হতে পারে।


Share with :

Facebook Twitter